সুনামগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬ , ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
একটি দল স্বৈরাচার দলটির মতো ভাষা ব্যবহার করছে : তারেক রহমান গিরিশনগরে ফসলরক্ষা বাঁধের প্রকল্প নেই, অরক্ষিত থাকবে কনছখাই হাওর অগণতান্ত্রিক শক্তি রুখতে ‘না’ ভোটকে বিজয়ী করার আহ্বান সংসদ সদস্য প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের তারেক রহমানের নেতৃত্বে হাওরাঞ্চলের উন্নয়ন করা হবে : কামরুজ্জামান কামরুল অনেক বাঁধে মাটিই পড়েনি, প্রশাসনের দাবি ৩০% কাজ শেষ জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও দায় মুক্তি নির্ধারণে অধ্যাদেশ জারি ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করা হলো ঘোড়াটিকে লঞ্চঘাট এলাকাকে শহরের অন্যতম নান্দনিক স্থান হিসেবে গড়ে তোলা হবে : ডিসি বিএনপি’র সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকতে মরিয়া জামায়াত শান্তিগঞ্জে ফসলরক্ষা বাঁধ পরিদর্শনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাপস শীল শিক্ষাব্যবস্থায় বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি-আরবি যুক্ত করা হবে : জামায়াতের আমির দেশে সিস্টেমের পরিবর্তন চাইলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিন : জেলা প্রশাসক সরিষা চাষে দ্বিগুণ লাভবান হাওর অঞ্চলের কৃষকরা ২৫০ পিস শিসা বুলেটসহ আটক ১ ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সংকট, জনমনে অসন্তোষ গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজারে কাজ শুরু হয়নি ভোটের মাঠে উত্তাপ : প্রচারণায় বাড়ছে বিষোদগার ও অসহিষ্ণুতা এই মাটির সন্তান হিসেবে আপনাদের সেবা করতে চাই : নাজমুল হুদা হিমেল খরচার হাওরে খাল সেচে মাছ লুট ফ্যামিলি কার্ডে মিলবে সব সরকারি সুবিধা : তারেক রহমান

সরিষা চাষে দ্বিগুণ লাভবান হাওর অঞ্চলের কৃষকরা

  • আপলোড সময় : ২৬-০১-২০২৬ ০৯:৩০:৩৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৬-০১-২০২৬ ০৯:৩০:৩৮ পূর্বাহ্ন
সরিষা চাষে দ্বিগুণ লাভবান হাওর অঞ্চলের কৃষকরা
জালাল উদ্দিন নাসিম :: হাওর জেলা সুনামগঞ্জে কৃষকদের মধ্যে সরিষা চাষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। ধান চাষের পাশাপাশি পতিত ও অনাবাদি জমিতে সরিষা আবাদ করে কৃষকরা জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করছেন। এতে একদিকে যেমন আবাদি জমির পরিমাণ বাড়ছে, অন্যদিকে কৃষকরাও হচ্ছেন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান। সরিষা চাষ সাধারণত বীজ বপন থেকে ফসল কাটার উপযোগী হতে ৭৫ থেকে ১০০ দিন সময় নেয়। এটি জাতভেদে ও চাষাবাদের পরিবেশের ওপর নির্ভর করে কিছুটা কমবেশি হতে পারে। সাধারণত ১৫ অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সরিষা বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। কিছু এলাকায় নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্তও বপন করা যায়। বীজ বপনের দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই সরিষা ফসল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জ জেলায় প্রায় ২০ হাজার কৃষক ৪ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, বর্তমানে জেলায় মোট ২ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ বেশি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলার ধর্মপাশা উপজেলায় সর্বাধিক ৭২০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষাবাদ হয়েছে। গত মৌসুমের তুলনায় এবার প্রায় দেড় হাজার হেক্টর বেশি জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৬৫ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। হাওর অঞ্চলে ধান চাষের পাশাপাশি সরিষার আবাদ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কৃষকরা বারি-১৪, বারি-১৭, বারি-১৮ জাতের পাশাপাশি বিনা-৯ জাতের সরিষাও চাষ করছেন। এছাড়া বিনা উপকেন্দ্র, সুনামগঞ্জ কর্তৃক উদ্ভাবিত বিনা সরিষা-০৯ ও বিনা সরিষা-১১ জাতগুলো অল্প সময়ে ফলন দেওয়ায় এবং কম খরচে ভালো লাভ হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কৃষক হালিম মিয়া বলেন, এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা খরচ হয় এবং ১৩ থেকে ১৪ মণ ধান পাওয়া যায়। এর বাজার মূল্য ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকার বেশি নয়। অথচ এক বিঘা জমিতে সরিষা চাষে সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ হয় এবং আয় হয় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। ধানের তুলনায় সরিষায় কয়েক গুণ বেশি লাভ পাওয়া যায়। তাছাড়া সরিষা চাষে পরিশ্রম ও পরিচর্যা অনেক কম। অন্যান্য কৃষকরাও জানান, সরিষা অনাবাদি ও পতিত জমিতেও ভালোভাবে জন্মে। ধান বা অন্যান্য ফসলের মতো নিয়মিত সেচ, সার প্রয়োগ কিংবা সারাদিন জমিতে পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। কম কষ্টে বেশি লাভ হওয়ায় তারা এখন সরিষা চাষে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওমর ফারুক বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবছর সরিষা চাষ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কৃষকদের আমরা উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ করেছি এবং নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দিচ্ছি। ভবিষ্যতে সরিষা চাষ আরও বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স