সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬ , ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দিরাইয়ে ৬ দোকান পুড়ে ছাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন এমপি কামরুজ্জামান কামরুল রোদের দেখা মিললেও হাওরে বন্যার শঙ্কা কাটেনি আজ মহান মে দিবস তাহিরপুরে ভাঙারখাল নদীর উপর টোল-ফ্রি বাঁশের সেতু নির্মাণ, স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে ৬৪৭৬ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল ডিসি সম্মেলন শুরু ৩ মে, থাকছে ৪৯৮ প্রস্তাব সুনামগঞ্জসহ ৫ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস উদযাপিত জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেল ছায়ার হাওর কাটা ধানে গজাচ্ছে চারা জলাবদ্ধতায় ডুবছে হাওরের ধান, অসহায় কৃষক হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর পরিস্থিতি বিবেচনায় ধাপে ধাপে ব্যারাকে ফিরবে সেনাবাহিনী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিরাইয়ে পৃথক দুই সংঘর্ষে আহত ৪০ হাওর বাঁচাতে আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনের প্রস্তাব সংসদে ফজলুর রহমানের বক্তব্যে তোলপাড় লোকবলের অভাবে চালু হচ্ছে না আইসিইউ, আড়াই বছর ধরে কক্ষ তালাবদ্ধ অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ডুবছে জমির ধান চরম দুর্দশায় হাওরের কৃষক জামালগঞ্জে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত

সরিষা চাষে দ্বিগুণ লাভবান হাওর অঞ্চলের কৃষকরা

  • আপলোড সময় : ২৬-০১-২০২৬ ০৯:৩০:৩৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৬-০১-২০২৬ ০৯:৩০:৩৮ পূর্বাহ্ন
সরিষা চাষে দ্বিগুণ লাভবান হাওর অঞ্চলের কৃষকরা
জালাল উদ্দিন নাসিম :: হাওর জেলা সুনামগঞ্জে কৃষকদের মধ্যে সরিষা চাষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। ধান চাষের পাশাপাশি পতিত ও অনাবাদি জমিতে সরিষা আবাদ করে কৃষকরা জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করছেন। এতে একদিকে যেমন আবাদি জমির পরিমাণ বাড়ছে, অন্যদিকে কৃষকরাও হচ্ছেন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান। সরিষা চাষ সাধারণত বীজ বপন থেকে ফসল কাটার উপযোগী হতে ৭৫ থেকে ১০০ দিন সময় নেয়। এটি জাতভেদে ও চাষাবাদের পরিবেশের ওপর নির্ভর করে কিছুটা কমবেশি হতে পারে। সাধারণত ১৫ অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সরিষা বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। কিছু এলাকায় নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্তও বপন করা যায়। বীজ বপনের দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই সরিষা ফসল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জ জেলায় প্রায় ২০ হাজার কৃষক ৪ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, বর্তমানে জেলায় মোট ২ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ বেশি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলার ধর্মপাশা উপজেলায় সর্বাধিক ৭২০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষাবাদ হয়েছে। গত মৌসুমের তুলনায় এবার প্রায় দেড় হাজার হেক্টর বেশি জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৬৫ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। হাওর অঞ্চলে ধান চাষের পাশাপাশি সরিষার আবাদ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কৃষকরা বারি-১৪, বারি-১৭, বারি-১৮ জাতের পাশাপাশি বিনা-৯ জাতের সরিষাও চাষ করছেন। এছাড়া বিনা উপকেন্দ্র, সুনামগঞ্জ কর্তৃক উদ্ভাবিত বিনা সরিষা-০৯ ও বিনা সরিষা-১১ জাতগুলো অল্প সময়ে ফলন দেওয়ায় এবং কম খরচে ভালো লাভ হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কৃষক হালিম মিয়া বলেন, এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা খরচ হয় এবং ১৩ থেকে ১৪ মণ ধান পাওয়া যায়। এর বাজার মূল্য ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকার বেশি নয়। অথচ এক বিঘা জমিতে সরিষা চাষে সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ হয় এবং আয় হয় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। ধানের তুলনায় সরিষায় কয়েক গুণ বেশি লাভ পাওয়া যায়। তাছাড়া সরিষা চাষে পরিশ্রম ও পরিচর্যা অনেক কম। অন্যান্য কৃষকরাও জানান, সরিষা অনাবাদি ও পতিত জমিতেও ভালোভাবে জন্মে। ধান বা অন্যান্য ফসলের মতো নিয়মিত সেচ, সার প্রয়োগ কিংবা সারাদিন জমিতে পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। কম কষ্টে বেশি লাভ হওয়ায় তারা এখন সরিষা চাষে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওমর ফারুক বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবছর সরিষা চাষ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কৃষকদের আমরা উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ করেছি এবং নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দিচ্ছি। ভবিষ্যতে সরিষা চাষ আরও বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স